তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দফতর সমন্বয় সভা হলো আ.লীগে


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার সাংগঠনিক কার্যক্রমের কৌশল নির্ধারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতরের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতবিনিময় হয়েছে। অনলাইনে বিরোধী শিবিরের গুজব ও অপপ্রচারের পাল্টা জবাব কিভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই মতবিনিময়ে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর ও উপদফতর সম্পাদকের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলোর দফতর ও সহদফতর সম্পাদকদের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর বিভাগ থেকে ধাপে ধাপে আটটি বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলোর দফতর ও সহদফতর সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগর, রাজশাহী, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দফতর ও সহদফতর সম্পাদকদের মধ্যে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাজের ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। বলা হয়, ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছেন। সেটি অনুসরণ করেই তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে এর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পাশাপাশি দলীয় প্রচার-প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ করা, গুজবের বিরুদ্ধে মানুষকে কীভাবে সচেতন করা যায় এবং বিরোধী শিবিরের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কীভাবে পাল্টা জবাব নির্ধারণ করা যায়— মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া নেতারা।

সভায় দলীয় কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা আলোচনার সময় নেতারা সম্প্রতি এক গবেষণায় কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, দেশে পাঁচ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে সক্রিয়। আর এই ব্যবহারকারীর অধিকাংশই তরুণ। তাই দলীয় কাজের ব্যবস্থাপনায় ও প্রচার-প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান নেতাার।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সংগঠনে দফতর বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় বিভাগ। দফতর বিভাগ সচল থাকলে সংগঠনে প্রাণশক্তির সঞ্চার হয়। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এই দফতর বিভাগকে গতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার কারণেই করোনাকালেও দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। তাই তার দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে আমাদেরও সঠিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে।

এরপর সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান। পরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মানুষের মধ্যে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ নিয়ে আলোচনা হয়। সভা থেকে রাজশাহী বিভাগে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়। এসময় জেলা নেতারা জানান, করোনা প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তারা কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী যে মাস্ক দিয়েছেন, সেটিও জনগণের মধ্যে বিতরণ করবেন।

এদিকে, আজকের এই দিনটিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। মতবিনিময় সভায় এ বিষয়টিও উঠে আসে। তারা বলেন, জনগণের অক্ষয় ভালোবাসার কারণেই শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে সক্ষম হয়েছিলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষ থেকে সভা পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। সিআরআই-এর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ এবং ডাটাবেজ টিমের সদস্য নূরুল আলম পাঠান মিলন ও কাওছার আহমেদ কৌশিক সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link